শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল এই বেকার

This unemployed man chose the path of suicide
শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল এই বেকার


This unemployed man chose the path of suicide : পশ্চিম মেদিনীপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা অনুপ মাইতির জীবনে দুটি মাত্র সম্বল ছিল; উচ্চ মেধা এবং শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া এক আশ্বাসবাণী। মেধার জোরে ২০১৪-১৫ সালে অনুষ্ঠিত টেট-এ পাশ করে।

কিন্তু দিন দিন আর্থিক অনটনের কারণে তার পক্ষে ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ক্রমে কঠিনতর হতে থাকে। প্রশিক্ষণ নেওয়া ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে মনস্থির করার সময়েই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর তরফ থেকে প্রতিশ্রুতিস্বরূপ বলা হয় যে টেট পাস প্রশিক্ষিতদের ধাপে ধাপে নিয়োগ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই আশার বাণী শুনে অনুপ ও তার মত ডি.এল.এড ২০১৬-১৮ বর্ষের শত শত শিক্ষার্থী শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে।

এই ঘটনার পর আরও দু'বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কোল খালি করে অনুপ আজ আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

এছাড়াও মাত্র ২মাস আগে ১৪ই মার্চ ২০২০ তারিখে আমাদেরই একজন সমযোগ্যতাসম্পন্ন বন্ধু, বাঁকুড়ার পাত্রসায়েরের একটি ছোট্ট গ্রাম কৃষ্ণপুরের সুভাষ বাগদি আর্থিক অনটনে উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ২ বছর এবং ৫ বছর বয়সী দুটি ছোট্ট ছোট্ট সন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিঃস্ব করে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন।

 আমাদের সরকার যদি গঠনমূলক কাজের কৃতিত্ব দাবী করে তাহলে আমাদের মত উচ্চশিক্ষিত,মেধাবী, টেট পাস প্রশিক্ষিত চাকুরিপ্রার্থীদের জীবনের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা এবং এই এই নিষ্পাপ জীবনগুলির ঝরে পড়ার দায়িত্বও সরকারকেই নিতে হবে।

সরকারের কাছে ডি.এল.এড টেট পাস ২০১৬-১৮ প্রার্থীদের ৬৫০ জনের একজন হিসেবে আজ আমি প্রশ্ন করছি যে, ক্রমে ক্রমে মৃত্যুর মিছিলে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানোর জন্যই কি সরকার আমাদের একদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে টেট পাস প্রশিক্ষিত ধাপে ধাপে নিয়োগ করা হবে?

রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের একমাত্র দাবি হলো এবার অন্তত আমাদের অর্থাৎ টেট পাস ডি.এল.এড ২০১৬-১৮ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরি দিয়ে আপনাদের প্রতিশ্রুতি পালন করুন এবং এই যন্ত্রণাময় জীবন থেকে আমাদের মুক্তি দিন। তা না হলে দুর্ভাগ্যক্রমে যদি এই মৃত্যু মিছিল চলতে থাকে তাহলে বাংলার অনেক মায়ের কোল খালি হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।




লেখাটি গৃহীত হয়েছে শ্রী Praloy Halder  ফেসবুক ওয়াল থেকে

1 Comments

আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করুন

  1. এই সব খবরের আগে পরে কোনো উত‍্যেজক ছবি দয়া করে দেবেন না

    ReplyDelete

Post a comment

আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করুন

Previous Post Next Post